ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা এবং ফাউমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা জানুন

সাধারণত ফাউমি মুরগি পালন করতে হলে ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।সর্বপ্রথম খাবার সম্পর্কে জানতে হবে তারপর বিভিন্ন রকম ঔষুধ ভ্যাকসিন সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি পড়লে জেনে যাবেন।তার সাথে জানিয়ে দেওয়া হবে ফাউমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা সম্পর্কে। 

ফাউমি-মুরগির-খাবার-তালিকা

তাই আপনি যদি ফাউমি মুরগির সঠিক খাবার ও ভ্যাকসিন তালিকা জেনে মুরগি পালন করে লাভবান হতে চান তাহলে অবশ্যই এই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আশা করি আপনি আপনার সব তথ্য পেয়ে যাবেন।
পোস্টসূচিপত্রঃ

ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা

আমি নিচে ফাউমি মুরগির সঠিক খাদ্য তালিকা তুলে ধরছি।যাতে করে আপনি সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা দেখে আপনার খামার পরিচালনা করতে পারেন। চলুন দেখে নেয়া যাক।সাধারণত বয়স ভেদে ফাউমি মুরগিকে তিন থেকে পাঁচ ধরনের খাবার দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন,

নাম             সপ্তাহ

স্টার্টার      -   ০ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত
গ্রোয়ার     -    ৭ থেকে ১৪ সপ্তাহ
লেয়ার ১   -    ১৫ থেকে ৪৫ সপ্তাহ পর্যন্ত
লেয়ার ২  -    ৪৬ থেকে ৯৫ সপ্তাহ পর্যন্ত

আমরা তো পাঁচ ধরনের খাবার নিয়ম সম্পর্কে জানলাম। অর্থাৎ, কোন ধরনের খাবার কোন বয়সে খাওয়াতে হবে। চলুন এবার সঠিক খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। আমি সঠিক খাদ্য তালিকা নিজে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরছি। আশা করি আপনি খাদ্য তালিকাটা মনোযোগ সহকারে দেখবেন।ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা নিচে জানিয়ে দেওয়া হলো:

উপাদান

স্টার্টার

গ্রোয়ার

লেয়ার ১

লেয়ার ২

প্রোটিন ৬০%

৮ কেজি

৫ কেজি

৪ কেজি

৩ কেজি

লবণ

৩০০ গ্রাম

২৮০ গ্রাম

২৮০ গ্রাম

২৮০ গ্রাম

ভূট্টা

৫২ কেজি

৫৪ কেজি

৫৫ কেজি

৫৬ কেজি

রাইচ পালিশ

১০ কেজি

১০ কেজি

৮ কেজি

৭.৫ কেজি

সয়াবিন মিল

২৫ কেজি

২৪ কেজি

২২ কেজি

২২ কেজি

সয়াবিন তেল

২০০ গ্রাম

১৫০ গ্রাম

১০০ গ্রাম


সোডা



৫০ গ্রাম

৭৫ গ্রাম

লাইমস্টোন অথবা ঝিনুকচূর্ণ

২ কেজি

২.৫ কেজি

৮ কেজি

১০ কেজি

ডিসিপি

৩০০ গ্রাম

৩০০ গ্রাম

৫০০ গ্রাম

৫০০ গ্রাম

টক্সিন বাইন্ডার

১২৫ গ্রাম

১৩৫ গ্রাম

১৫০ গ্রাম

১৫০ গ্রাম

এল-লাইসিন

১০০ গ্রাম

৯০ গ্রাম

৮০ গ্রাম

৬০ গ্রাম

প্রিমিক্স

২০০ গ্রাম

২৫০ গ্রাম

৩০০ গ্রাম

৩০০ গ্রাম

কোলিন ক্লোরাইড

৬০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

ডি এল -  মিথিওনিন

১৫০ গ্রাম

১৩৫ গ্রাম

১৩০ গ্রাম

১২৫ গ্রাম

সালমোনেলা কিলার

৩০০ গ্রাম

২৫০ গ্রাম

৩০০ গ্রাম

৩২০ গ্রাম

সর্বমোট

  ১০০ কেজি

  ১০০ কেজি

  ১০০ কেজি

  ১০০ কেজি

আশা করি আপনি ওপরের তালিকাটি দেখে সঠিক খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জেনে গেছেন। আশা করি উপরের দেখানো নিয়মে খাবার পরিবেশন করলে আপনার মুরগির সঠিক ওজন পাবেন আর সাথে সাথে মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাই অবশ্যই উপরের তালিকা অনুযায়ী খাবার ব্যবহার করুন এবং উপরের তালিকা কে মেনে চলুন।

ফাউমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা

আমি নিতে ফাউমি মুরগির সঠিক ভ্যাকসিন তালিকা উপস্থাপন করছি। যাতে করে আপনি সঠিক ভ্যাকসিন সিডিউল দেখে মুরগি পালন করতে পারেন। তাই সঠিক ভ্যাকসিন তালিকা সম্পর্কে জানতে নিচে তুলে ধরা টেবিলটি মনোযোগ সহকারে দেখুন।

বয়স অথবা দিন

ভ্যাকসিনের         নাম

রোগের নাম

প্রয়োগ পদ্ধতি

  প্রকৃতি

প্রথম থেকে তৃতীয় দিন

(আইবি) তার সাথে (এনডি)

রাণীক্ষেত এবং ব্রংকাইটিস

চোখে ফোঁটা আকারে

লাইভ

সপ্তম থেকে নবম দিন

আই বি ডি

গামবোরো

ফুখে ফোঁটা আকারে


লাইভ

১৬ তম থেকে ১৭ তম দিন

ল্যাসোটা

রাণীক্ষেত

চোখে ড্রপ হিসেবে

লাইভ

১৮ তম থেকে ২০ তম দিন

আই বি ডি

গামবোরো

খাবার পানিতে

লাইভ

২৪ তম থেকে ২৮তম দিন

এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জা (H5N1)

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা 

(বার্ড ফ্লু)

চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে


কিল্ড

৩০ তম থেকে ৩৫ তম দিন

ফাউল পক্স

ফাউল পক্স

ডানায়সূচ ফুটানো পদ্ধতিতে

ডি এন এ লাইভ

ষষ্ঠ থেকে সপ্তম সপ্তাহ

এনডি

রাণীক্ষেত

ঘাড়ের চামড়ার নিচে ইনজেকশন প্রয়োগ করে

কিল্ড

অষ্টম সপ্তাহ

ফাউল কলেরা

ফাউল কলেরা

বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা  অনুযায়ী

কিল্ড

নবম সপ্তাহ

(করাইজা) তার সাথে

(সালমোনেলা)


ইনফেকশাস করাইজা এবং সালমোনেলা

বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা  অনুযায়ী

কিল্ড

লাইভ


দ্বাদশ সপ্তাহ

ফাউল কলেরা

ফাউল কলেরা

বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা  অনুযায়ী

কিল্ড

১৫ তম থেকে ১৬ তম সপ্তাহ

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (H5N1)

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু)

চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে

কিল্ড

১৬ তম সপ্তাহ

(জি) তার সাথে (এনডি) তার সাথে (আইবি)

করাইজা,ব্রংকাইটিস,সালমোনেলা এবং রাণীক্ষেত

বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা অনুযায়ী

কিল্ড

বিশেষ সতর্কতা 

ওপরের টেবিলে সঠিক ফাউমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভ্যাকসিন সিডিউল ব্যবহার করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করবেন।আর ওপরের উল্লেখ করা রানীক্ষেত ভ্যাকসিনটি আপাতত প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর ব্যবহার করবেন।এক্ষেত্রে যদি মুরগির ভ্যাকসিন টাইটার কমে যায় তাহলে বিভিন্ন ধরনের লাইভ ভ্যাকসিন দিতে পারেন।

সর্বশেষ এটাই বলব ভ্যাকসিন শিডিউল মেনে মুরগি পালন করুন।আর যদি পারেন অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

ফাউমি মুরগির ঔষধের তালিকা

সাধারণত ফাউমি মুরগি যদি আপনারা খামার করে পালন করেন তাহলে কিন্তু বিভিন্ন রকমের ঔষধ গুলো খাওয়াতে হবে।তাইতো ফাউমি মুরগির ঔষধের তালিকা সম্পর্কে আপনাদের খুব ভালোভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।সাধারণত বিদেশী জাতের যেকোনো মুরগি পালন করলেই সেই গুলোকে ভালোভাবে ওষুধ খাওয়াতে হবে নাহলে কিন্তু আপনারা কোন ভাবেই লালন পালন করতে পারবেন না।
বিভিন্ন রকমের ঔষধ গুলো যদি আপনারা না খাইয়ে থাকেন তাহলে বিভিন্ন রকমের রোগ জীবাণু এসে বাসা বাঁধবে দিয়ে তারা দ্রুত মারা যাবে কোন ভাবেই ডিম উৎপাদন করবে না।তাইতো ফাউমি মুরগি সম্পর্কে সব রকমের তথ্য আমাদের এই আর্টিকেলের মধ্যে খুব ভালোভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আপনারা শুধু ধৈর্য সহকারে পড়ে দেখে জেনে নেবেন।তাইতো নিচে ফাউমি মুরগির কিছু ঔষধের তালিকা জানিয়ে দেওয়া হলো:
  • প্রথম দিনে লাইসো ভেট খাবেন। 
  • ২ থেকে ৪ দিন - এমক্সাসিলিন।
  • ৩ থেকে ৫ দিন - রানীক্ষেত ভ্যাকসিন 
  • ১০ থেকে ১২ দিনের ভেতর - গামবোরো ভ্যাকসিন 
  • ১২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে - লিভারটনিক ও ভিটামিন খাওয়াবেন। 
  • ১৮ থেকে ২২ দিনের ভেতর - আবার গামবোরো ভ্যাকসিন 
  • ২৪ থেকে ২৬ দিনের মধ্যে আবার - রানীক্ষেত ভ্যাকসিন 
  • ২৪ থেকে ২৬ দিনে - সিপ্রোসিন + এম্প্রোলিয়াম
  • ৩০ দিন বয়সে - ফাউল পক্সের ভ্যাকসিন 
  • ৩৫ দিন বয়সে - কৃমিনাশক ঔষধ 
  • ৪৫ থেকে ৪৮ দিনের ভেতর - আবার রানীক্ষেত ভ্যাকসিন 
  • 50 দিন বয়সে - এন্টিবায়োটিক,লিভারটনিক এবং ভিটামিন।
সাধারণত পুরো সপ্তহে ফাউমি মুরগিকে যেসব ঔষধ খাওয়াবেন তার তালিকা নিচে জানিয়ে দেওয়া হলো:


ফাউমি মুরগি কত দিনে ডিম দেয়

আমাদের বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হওয়া যায় ফাউমি মুরগি পালন করে। প্রধান কারণ হচ্ছে, অন্যান্য মুরগির চেয়ে এই মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে বেশ ভালো পরিমাণে ডিম দিয়ে থাকে এই ফাউমি মুরগি। মূলত একটি মুরগির যখন চার থেকে পাঁচ মাস বয়স সম্পন্ন হয়ে যায়। তখন সাধারণত মুরগিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে। তবে শুধুমাত্র ৫০% ডিম দেয় চার থেকে পাঁচ মাস বয়সে।

ফাউমি-মুরগির-খাবার-তালিকা

সে ক্ষেত্রে ডিম দিতে দিতে যখন মুরগীর বয়স ছয় মাস সম্পন্ন হয়ে যায় তখন মুরগি সম্পন্ন রূপে ডিম দেওয়া শুরু করে।যদি আরো সহজ ভাষায় বলতে যাই তাহলে, প্রায় প্রতি বছরে একটি ফাউমি মুরগি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পার্সেন্ট ডিম প্রদান করতে সক্ষম। তবে, আবহাওয়া অথবা পরিবেশ ভেদে ডিম দেওয়ার তারতম্য দেখা দিতে পারে। সাধারণত মোরগ প্রায় পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ডাক দেয়া শুরু করে। তবে অন্যান্য মুরগি পালনের চেয়ে এই মুরগি পালনের সুবিধা রয়েছে। যেমন, অন্যান্য মুরগির চেয়ে এই মুরগির রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম হয়।

সাধারণত ফাউমি মুরগির ডিম ঠিক দেশি মুরগির মত সুস্বাদু হয়ে থাকে। মূলত ফাউমি মুরগি কোন বিরতি ছাড়াই ডিম পারে বলে এই মুরগিকে বিভিন্ন জায়গায় ডিমের রানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরিশেষে যখন একটি মুরগির বয়স ২ বছর বা তার অধিক হয়ে দেয় তখন সাধারণত মুরগির ডিম দেওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে।

ফাউমি মুরগির বাচ্চা চেনার উপায়

মূলত আমরা অনেকেই জানিনা যে বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সবচেয়ে উপযুক্ত মুরগির জাত হচ্ছে ফাউমি মুরগি। তার কারণ এটি বাংলাদেশের আবহাওয়া খাপ খাইয়ে নেই। আর অন্যান্য মুরগির চেয়ে এই মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং এই মুরগির খাবারে কখনো অরুচি না থাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মানুষ বাণিজ্যিকভাবে এই মুরগি পালন করেন। সাধারণত একটি ফাউমি মুরগির দুইটি রংয়ের জাত রয়েছে। যেমন, গোল্ডেন পেন্সিল এবং সিলভার পেন্সিল।

আর এই মুরগির চেনার উপায় হচ্ছে, সাধারণত একটি ফাউমি মুরগির চোখ গাঢ ় বর্ণের হয়ে থাকে এবং তার সাথে সাথে বাদামী রং এর ঠোঁট থাকে। এছাড়াও মুরগির পায়ের রং ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে এবং মুরগির বাচ্চার কানের লতিতে সাদা সাদা বর্ণের স্পট থাকে। এর পরবর্তীতে মুরগির বাচ্চার নিলাভ কালো পা থাকে। এর পরবর্তীতে মুরগির রূপালী সাদা রং এর ঘাড় থাকে ও পুরো শরীরে কালো কালো ছোপের পালক দিয়ে ঢাকা থাকে।

এর পরবর্তীতে মুরগির গায়ের খাঁজগুলো সুষম, মাথার ঝুঁটি, কানের লতি এবং গলার ফুল উজ্জ্বল বর্ণের হয়ে থাকে। আশা করি এখন আর আপনার ফাউমি মুরগির বাচ্চা চিনতে কোন ধরনের সমস্যা হবে না। উপরের বিষয়গুলো বাচ্চা ক্রয়ের সময় লক্ষ্য করলে আপনি অনায়াসে ফাউমি মুরগি চিনতে পারবেন।

ফাউমি মুরগি পালন পদ্ধতি

অন্যান্য মুরগির চেয়ে ফাউমি মুরগি পালন করা খুবই সহজ। এছাড়াও বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য একটি উপযুক্ত মুরগির জাত হচ্ছে ফাউমি মুরগির জাত। সাধারণত অন্যান্য মুরগি খুব বেশি একটা গরম সহ্য করতে পারে না, যার কারণে অন্য জাতের মুরগিগুলো পালন করতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু ফাউমি মুরগি খুব সহজে গরম আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে পারে যার কারণে এই মুরগি পালন করার পাশাপাশি অন্যান্য মুরগির চেয়ে এই মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়ে থাকে।
আপনি খুব সহজে বিভিন্ন ধরনের লেয়ার জাতীয় খাবার খাইয়ে এবং সঠিক ভ্যাকসিন সিডিউল মেনে এই মুরগি পালন করতে পারেন। তার কারণ অন্যান্য মুরগি পালনের চেয়ে ফাউমি মুরগি বেশি লাভজনক। মূলত এর প্রধান কারণ হচ্ছে, বিরতিহীন ভাবে ডিম দেওয়া। অন্যান্য মুরগির মত ডিম দেওয়াতে বিরতি না থাকায় উক্ত মুরগি পালনে বেশি লাভবান হওয়া যায়। আর অন্যান্য মুরগীর মত এই মুরগি অনেক দিন যাবত কুচে বসে না বলে আপনি খুব সহজে এটি পালন করতে পারেন।

তবে এই মুরগি আপনি আবদ্ধ পদ্ধতিতে পালন করতে পারেন। তবে আপনি খেয়াল রাখবেন যে, অন্তত দিনের একটি সময় মুরগিকে খোলা খোলা পরিবেশে ছেড়ে দিবেন। খোলা পরিবেশে ছেড়ে দিলে মুরগি বাহির থেকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেল সংগ্রহ করবে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ঘাস এবং লতা পাতা খাবে যার কারনে আপনার খাবারের খরচ তাও কমে আসবে। আর যত খাবারের খরচ কমে আসবে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। তাই আমি বলব অবশ্যই নিয়ম মেনে মুরগি পালন করুন এবং লাভবান হন।

ফাউমি মুরগির দাম কত

সাধারণত ফাউমি মুরগির দাম অনেক হয়ে থাকে কারণ এই মুরগি হচ্ছে নতুন মুরগি হওয়ার কারণে।তাইতো ফাউমি মুরগির দাম কত তা আপনাদের খুব ভালোভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।সাধারণত প্রতি কেজি ফাউমি মুরগির দাম ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে।এর থেকে আবার কম বেশি হতে পারে সেই দিকে আপনারা খেয়াল রেখে বিষয় বিবেচনা করে দেখবেন তাহলে ভালো দাম দিয়ে কিনতে পারবেন।

ফাউমি-মুরগির-দাম-কত

কারণ অনেক মানুষ আছে যারা ফাউমি মুরগির বিভিন্ন রকম দাম চেয়ে থাকে তবে আপনারা অবশ্যই দাম দর করে কিনবেন তাহলে কোন রকম তেমন সমস্যায় পড়বেন না।ফাউমি মুরগি ৫০০ টাকার বেশি দাম দিয়ে কিনতে হতে পারে আবার ৫০০ টাকারও কম দামেও পেতে পারেন। 

ফাউমি মুরগির ডিমের দাম

সাধারণত ফাউমি মুরগি হচ্ছে খুবই ভালো মুরগি।তাইতো ফাউমি মুরগির ডিমের দাম কত তা আপনাদের খুব ভালোভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।সাধারণত এই ফাউমি মুরগি মানুষ এতটাই পুষ্টিকর গুনাগুন উপাদান আছে যেটা খেলে আপনারা ভালো উপকার পেয়ে যাবেন।তাইতো ফাউমি মুরগির ডিমেও প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি গুণ আছে তাই আপনারা এই ফাউমি মুরগির ডিম বেশি করে খেতে পারেন।
আবার যারা মনে করছেন ফাউমি মুরগির ডিম নিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করবেন তারাও করতে পারেন এই মুরগিগুলোর বাচ্চা ভালোভাবে ওঠে।তাইতো ফাউমি মুরগির বিভিন্ন রকম ডিমের দাম নিচে জানিয়ে দেওয়া হলো:
  • ফাউমি মুরগির এমনি খাওয়ার ডিম প্রতি পিস ২০ টাকা।
  • ফাউমি মুরগির বাচ্চা উঠানোর জন্য বীজ ডিম প্রতি পিস ২৫ টাকা। 

ফাউমি মুরগি নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা FAQ

প্রশ্নঃকোন খাবার খেলে মুরগি দ্রুত বাড়ে?
উত্তরঃ মুরগিকে এমন পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে যাতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং প্রোটিন থাকে।

প্রশ্নঃমুরগির সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি?
উত্তরঃ তরমুজ, স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরি ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ১ কেজি মুরগির খাবার কত?
উত্তরঃ প্রায় ছয় থেকে দশজন মুরগিকে খাওয়ানো যায়।

প্রশ্নঃপোল্ট্রির সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি?
উত্তরঃশস্য, খড় ও লেগুমের মিশ্রণ।

প্রশ্নঃমুরগির মাংস কি খাওয়ানো হয়?
উত্তরঃ বাণিজ্যিক ফিড সমূহ।

শেষ কথা | ফাউমি মুরগির খাবার তালিকা

এই সম্পূর্ণ পোস্টটি জুড়ে আমি আপনাদের মাঝে ফাউমি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা সঠিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আশা করি এই সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে গেছেন। এই সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার পর যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। যাতে করে আপনার মত আপনার বন্ধুরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। আর এরকমই বিভিন্ন রকমের তথ্য পেতে ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করতে থাকুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url